👁 458 Views

দিনাজপুরে বোরো মৌসুমে ধান কাটা শেষ, খরচ বাড়ায় বাজারে চালের দাম ঊর্ধ্বগতি॥

মোঃ আফজাল হোসেন, ফুলবাড়ী, দিনাজপুর প্রতিনিধিঃ দিনাজপুর জেলায় চলতি বোরো মৌসুমে খরচ বাড়ায় বাজারে চালের দাম বেড়েছে। চলতি মাসে বস্তা প্রতি চালের দাম বেড়েছে ১৫০-৩০০ টাকা। দিনাজপুরের চাল উৎপাদন প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে। বিদ্যুতের লোডশেডিং এর কারণে চাল উৎপাদন ব্যয় বেড়েছে প্রায় ২০ শতাংশ। বাজারে চালের দাম আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে চালের ব্যবসায়ীরা জানান । চলতি মাসে ইরি বোরো মৌসুম মানেই সাধারণত চালের বাজারে স্বস্তির বার্তা থাকলেও নতুন ধান কৃষকেরা কাটার সঙ্গে সঙ্গে বাজারে চালের সরবরাহ বাড়ে । আবার চালের দাম কিছুটা কমলেও এখন এক সপ্তাহের ব্যবধানে চালের দাম বেড়ে গেছে। অন্যতম বৃহৎ ধান উৎপাদন কারী জেলা হচ্ছে দিনাজপুর । এবার ধানের উৎপাদন বৃদ্ধি পেলেও বাজারে তার সম্পূর্ণ ভিন্ন চিত্র এই ভরা মৌসুমে লাগামহীন হয়ে উঠেছে চালের বাজার সপ্তাহের ব্যবধানে ৫০ কেজির বস্তা প্রতি ১৫০-৩০০ টাকা পর্যন্ত দাম বেড়েছে। বিভিন্ন জাতের ধানের চাল বাজারে উঠলেও দাম কমেনি। বাজারে চালের দাম বৃদ্ধি পাইলেও সাধারণ ভোক্তারা চাপে পড়েছে। বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন ভরা মৌসুমে চালের দাম না কমার পিছনে নানান কারণ রয়েছে। চালের মূল্যবৃদ্ধির পিছনে রয়েছে ধানের দাম বৃদ্ধি , পরিবহন খরচ, জ¦ালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধি, বিদ্যুতের বাড়তি খরচ এবং ঘন ঘন লোডশেডিং এর কারণে উৎপাদন ও পরিবহন ব্যয় বেড়ে গেছে। এর প্রভাব পড়ছে বাজারের খুচরা চাল ব্যবসায়ীদের মধ্যে ।
দিনাজপুরের সবচেয়ে বৃহৎ চালের মোকাম বাহাদুর বাজার সেখানে চালের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে , মিনিকেট চালের ৫০ কেজির বস্তায় ৩ হাজার ১ শত টাকায়, বর্তমানে তা বিক্রি হচ্ছে ৩ হাজার ৩ শত টাকা। আঠাশ চাল বস্তা প্রতি ২ হাজার ৭ শত টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে ২ হাজার ৮ শত ৫০ টাকা , উনত্রিশ জাতের চাল ২ হাজার ৫ শত টাকা থেকে বেড়ে ২ হাজার ৬ শত টাকা , স্বর্ণা চাল ২ হাজার ২ শত ৫০ টাকা থেকে বেড়ে ২ হাজার ৫ শত টাকা এবং চিনিগুঁড়া চালের বস্তা ৭ হাজার থেকে বেড়ে ৭ হাজার ৪ শত টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
চাল ব্যবসায়ীরা বলছেন মৌসুমের শেষের দিকে বাজারে ধান সরবরাহ কমে আসায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠেছে। বাজারে যে পরিমাণ ধান রয়েছে তার বড় অংশ মজুদ কারীদের নিয়ন্ত্রণে । তারা নিজস্ব গুদামে মজুদ করছে ধান। ফলে ধানের দাম বাজারে হু হু করে বাড়ছে। কারণ অটো রাইচ মিলগুলি ধান ক্রয় করে মজুদ করে অটো রাইস মিল গুলি চালু রাখতে হচ্ছে। ধানের মজুদ না করলে মিলগুলি চালাতে পারবে না, এতে তাদের গুণতে হবে ক্ষতি। দিনাজপুরের ১৩ টি উপজেলায় ছোট বড় মিলে প্রায় ২ হাজার চাল কল রয়েছে। এর মধ্যে ৩ শতটি অটো রাইস মিল। প্রতিদিন ৬-৭ হাজার মেট্রিক টন চাল উৎপাদিত হতো বর্তমান উৎপাদন নেমে এসেছে ৩-৪ হাজার মেট্রিক টনে, প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে, মিল মালিকদের এ ভাষ্য। উৎপাাদনের একটি বড় অংশই এখন বিদ্যুৎ ও জ¦ালানি নির্ভর, একটি অটো রাইস মিলে প্রায় ১৫ শতাংশ ব্যয় হয় বিদ্যুৎ খাতে। তারা গত বছর ধান মজুদ করে রেখে মিল চালিয়ে বাজারে চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, এর মধ্যে অনেক মিল সরকারের সাথে চাল সরবরাহের জন্য চুক্তি বদ্ধ রয়েছে। সেখানেও তাদের ক্ষতি হয়েছে লক্ষ লক্ষ টাকা যেহেতু তারা বেশি দামে ধান ক্রয় করে রেখেছিল। বর্তমান বাজারে হঠাৎ করে চালের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে এ সব কারণে ।
ফুলবাড়ী উপজেলার বিশিষ্ট ব্যবসায়ী অটো মিলের মালিক শ্রী রাজেন্দ্র প্রসাদ বলেন, ব্যবসায়ীরা অতিরিক্ত চালের বিক্রয়ে লাভ করছে তা এমনটা নয়। আমরা বিভিন্ন কারণে এবং সমস্যার মধ্যে অল্প লাভে মিল গেট থেকে চাউল বাজারে সরবরাহ করছি ব্যবসায়ীদের কাছে। চাল ব্যবসায়ীরা সেখান থেকে ক্রয় করে নিয়ে গোডাউনে রেখে খুচরা ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি করছে ।
একইভাবে ফুলবাড়ী পৌরসভা খোলা বাজারের চাল ব্যবসায়ী শ্রী জয়প্রকাশ বলেন, কয়েক হাত বদল হয়ে চাল কিনে খোলা বাজারে আমরা চাল বিক্রি করছি সেখানে ১০-২০ টাকা দাম তো বাড়বে। এই দিকে বাজারের ধানের দাম দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। ভরা মৌসুম শেষ হওয়ার মধ্যে চালের দাম ঊর্ধ্বমুখী হওয়ায় উদ্বেগ বাড়ছে ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *