👁 377 Views

দিনাজপুর-৬ আসনের জনগণের প্রতি জামায়াত প্রার্থী মোঃ আনোয়ারুল ইসলামের ২৬ দফা প্রতিশ্রুতি ঘোষনা

নূর মোহাম্মদ অন্তর , বিশেষ প্রতিনিধি : ৯ ফেব্রুয়ারী সোমবার রাতে দিনাজপুর-৬ আসনের  জামায়াত মনোনিত ও ১১ দল সমর্থিত প্রার্থী মোঃ আনোয়ারুল ইসলাম সাংবাদিক সম্মেলনের মাধ্যমে ২৬ দফা প্রতিশ্রুতি ঘোষনা ঘোষনা করেন। এসময় জেলা জামায়াত সেক্রেটারী ড. এনামুল হক, ১১ দলের দিনাজপুর-৬ আসনের প্রতিনিধিগন উপস্থিত ছিলেন।

ঘোষিত প্রতিশ্রুতির দফাগুলো হল : ১. জেলা বাস্তবায়ন: বিরামপুর, হাকিমপুর, ঘোড়াঘাট ও নবাবগঞ্জ উপজেলার সার্বিক উন্নয়ন এবং প্রশাসনিক কাঠামো সহ অন্যান্য সুযোগ সুবিধা বিকেন্দ্রীকরণ ও সহজলভ্য করার লক্ষ্যে বিরামপুর জেলা বাস্তবায়নের কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ। ছোট যমুনার পশ্চিম পার্শ্বে আধুনিক উপশহর গড়ে তোলার জন্য প্রয়োজনীয় বাবস্থা গ্রহণ।

২. পৌরসভা ও পুলিশ ফাঁড়ি: নবাবগঞ্জে পৌরসভা প্রতিষ্ঠা করে সকল নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করা ও ভাদুরিয়া এলাকায় স্থায়ী আধুনিক পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপনের জন্য প্রয়োজনীয়

৩. যোগাযোগ অবকাঠামো : রাস্তাঘাট, ব্রীজ-কালভার্ট নির্মাণ ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার আধুনিকায়ন এবং বিরামপুর কলাবাগান-মির্জাপুর সহ গুরুত্বপূর্ণ স্থানে রোড ডিভাইডার নির্মাণ

৪.ওভারপাস ও বাইপাস: সময় ও জীবন বাঁচাতে ঘোড়াঘাট রেল খুন্টিতে ফ্লাইওভার ও বিরামপুর রেল স্টেশন সংলগ্ন রেল ক্রসিং এ ওভারপাস এবং বিরামপুর বিছকিনী হাই রোড থেকে টাটকপুর পর্যন্ত বাইপাস করণের উদ্যোগ গ্রহণ।

৫. নদী শাসন ও সেতু :  ঘোড়াঘাটের করতোয়া নদী সহ সকল নদী ভাঙন রোধ, শহর রক্ষা বাঁধ ও হাজিরঘাটে সেতু নির্মাণ।

৬. হিলি স্থলবন্দর : সকল ধরণের পণ্যের আমদানী-রপ্তানী নিশ্চিতকরণ, হিলি শহরের জলাবদ্ধতা নিরসনে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ ও বন্দরের কার্যক্রম পূর্ণাঙ্গ অটোমেশন, ডিজিটালাইজেশন এবং অত্যাধুনিক কন্টেইনার টার্মিনাল নির্মাণ।

৭.কৃষি :  সকল কৃষি পণ্যের সংরক্ষনাগার নির্মাণ, খাল খনন, সেচ প্রকল্প স্থাপন, সহজীকরণ, হিমাগার নির্মাণ ও কৃষকদের জন্য সুলভ মূল্যে সার-বীজ নিশ্চিতকরণ এবং ভূমি পণ্যের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিতকরণে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ।

৮. শিল্পায়ন: চার উপজেলায় চারটি বিসিক শিল্পনগরী স্থাপন এবং বিনিয়োগকারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ।

৯. বাজার ব্যবস্থাপনা: চার উপজেলার সবজি বাজার ও গো-হাটের আধুনিকায়ন এবং ইজারা ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা আনয়ন।

১০. শিক্ষার মানোন্নয়ন: চার উপজেলায় শিক্ষার মান উন্নয়নে মডেল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নির্মাণ, উচ্চশিক্ষার জন্য চার উপজেলার কলেজগুলোতে অনার্স চালু করা এবং যে কলেজগুলোতে অনার্স চালু আছে সেখানে অনার্সের সাবজেক্ট বৃদ্ধি করা। আলিয়া মাদরাসা ও কুওমি মাদরাসা শিক্ষার অবকাঠামোগত উন্নয়ন। আইটি ও বিজ্ঞান শিক্ষার প্রসারের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ।

১১. যুব প্রশিক্ষণ: তরুণদের কারিগরি শিক্ষা, ভাষাগত দক্ষতা ও আইটি প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ জনসম্পদ হিসেবে গড়ে তোলা।

১২. কর্মসংস্থান : দেশ বিদেশে নিরাপদ ও সম্মান জনক, কর্মসংস্থান পেতে উপজেলা কর্মসংস্থান অফিসের পাশাপাশি একটি বিশেষ সহায়তা কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করা।

১৩. হাসপাতাল আধুনিকায়ন: সরকারি হসপিটালগুলোতে বিদ্যমান শয্যা সংখ্যা বৃদ্ধি, কমিউনিটি ক্লিনিক সচলীকরণ এবং মা ও শিশুদের জন্য স্বল্প মূল্যে মেডিকেটেড হেলথ সেন্টার স্থাপন, ধাত্রী প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনা। ইউনিয়ন ভিত্তিক সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে অ্যাম্বুলেন্স সেবা চালু করায় পদক্ষেপ গ্রহণ।

১৪. শ্রমিক স্বাস্থ্য : শ্রমিক ও তাদের পরিবারের জন্য বেসরকারি ক্লিনিকগুলোতে বিশেষ ছাড়ে চিকিৎসা সেবার চুক্তি সম্পাদন।

১৫. প্রাণিসম্পদ সেবা: খামারিদের সহায়তায় মাঠ পর্যায়ে ভেটেরিনারি সেবা জোরদার ও বিনামূল্যে চিকিৎসা নিশ্চিতকরণ।

১৬. সামাজিক সুরক্ষা: বিধবা, বয়স্ক ও প্রতিবন্ধী ভাতাসহ সকল সরকারি অনুদান জাতি, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে প্রকৃত হকদারদের মাঝে স্বাজভাবে বিতরণ নিশ্চিত করা।

১৭. নারীর ক্ষমতায়ন: নারীর নিরাপদ কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করণ।

১৮. অন্যান্য ধর্মাবলম্বী ও নৃ-গোষ্ঠী : সকল ধর্মের ধর্মীয় ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিতসহ ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীদের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য সংরক্ষণে আলাদা সংস্কৃতি কেন্দ্র গড়ে তোলা হবে এবং ব্যবসা-বাণিজ্য ও চাকুরির ক্ষেত্রে সমান অধিকার ও পূর্ণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করণ।

১৯. সাংবাদিক সুরক্ষা: সাংবাদিকদের আর্থ-সামাজিক নিরাপত্তার জন্য বিশেষ কল্যাণ ফান্ড গঠন।

২০. পরিবহন শ্রমিক: রাস্তায় যন্ত্র চালিত খ্রি দুইলার চালকদের বিনা মূল্যে প্রশিক্ষনের ব্যবস্থা ও তাদের জন্য আপদকালীন নিরাপত্তা ফান্ড গঠন করা

২১. ক্রীড়া ও বিনোদন: চার উপজেলায় আধুনিক স্টেডিয়াম নির্মাণ ও সুস্থ বিনোদনের ব্যবস্থা।

২২. পর্যটন: দর্শনীয় স্থান এবং প্রত্নতাত্ত্বিক স্থান গুলো সংরক্ষণ ও পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা।

২৩. রেল যোগাযোগ : হিলি ও ডাংগাপাড়া রেলস্টেশনের আধুনিকায়ন এবং হিলি স্টেশনে আন্তঃনগর ট্রেনের স্টপেজ নিশ্চিতকরণ।

২৪. জনবান্ধব পুলিশিং:  রাজনৈতিক হয়রানিমুক্ত ও জনবান্ধব থানা প্রশাসন গঠন, ন্যায়বিচার তথা ইনসাফ নিশ্চিতকরণ।

২৫. দুর্নীতি ও মাদক : মাদক, দুর্নীতি ও চাঁদাবাজিযুক্ত সমাজ গড়তে সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে নির্মূল করা।

২৬. সেবামূলক প্রশাসন: হাসপাতাল, ভূমি অফিস ও স্থানীয় সরকার সহ সকল প্রতিষ্ঠানগুলোকে হয়রানিমুক্ত ও পুরোপুরি জনবান্ধব করা।

×

শেয়ার করুন:

Download High Quality Image

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *