মোরশেদ মানিক : প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন ও প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ-কে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান মন্ত্রণালয়ের সচিব আবু তাহের মো: মাসুদ রানা। ১৮ ফেব্রয়ারী প্রথম মন্ত্রনালনে মন্ত্রীদয়ের প্রথম আগমনে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিবসহ অন্যান্যরা তাঁদের ফুলেল শুভেচ্ছা জানান। শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত ২ মন্ত্রী পেশাদার শিক্ষক হওয়ায় মন্ত্রনালয় দুটির সকল পর্যায়ের দায়িত্বশীলদের দিকনিদেশনা দিয়ে শিক্ষার মান উন্নয়ন সাধন করবেন, এমনটায় প্রত্যাশা শিক্ষা অনুরাগীদের।
২ মন্ত্রী ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষার মন্ত্রণালয়ের সচিব মহোদয়ের সংক্ষিপ্ত বিবরন তুলে ধরা হল :
আ ন ম এহসানুল হক মিলন, মন্ত্রী- শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় : ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চাঁদপুর-১ (কচুয়া) আসনে ধানের শীষ প্রতীকে সাবেক শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বিজয়ী হয়েছেন। ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ গ্রহণের পর সেদিন বিকেলেই তাকে শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর দায়িত্ব দেয়া হয়।
তিনি বাংলাদেশের একজন রাজনীতিবিদ, লেখক এবং সাবেক সংসদ সদস্য। ২০০১ থেকে ২০০৬ পর্যন্ত বাংলাদেশ সরকারের শিক্ষা প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন মিলন। সেই সময় পরীক্ষায় নকল প্রতিরোধে ব্যাপক ভূমিকা রাখেন। ২৪ এর আগস্ট পরবর্তী সময়ে অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের অপমান অপদস্ত করতে কিছু বিপথগামী শিক্ষার্থী ও একটি চক্র তৎপর ছিল। সচেতন জনগনের প্রত্যাশা ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনের মাধ্যমেই শিক্ষা ব্যবস্থার শনি দূর হবে। শিক্ষার গুনগত মান উন্নয়ন করবেন।
আ ন ম এহসানুল হক মিলন ১৯৫৭ সালের ২৬ মার্চ চাঁদপুর জেলার কচুয়া উপজেলায় জন্ম গ্রহণ করেন। তিনি শের ই বাংলা নগর সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক এবং গভ. ইন্টারমিডিয়েট টেকনিক্যাল কলেজ (বর্তমান সরকারী বিজ্ঞান কলেজ) থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পাশ করেন। এরপর তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রসায়নে স্নাতক সম্পন্ন করে ১৯৮২ সালে যুক্তরাষ্ট্রে গমন করেন। মিলন নিউইয়র্ক ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি থেকে এমবিএ ডিগ্রি অর্জন করেন। এরপর ব্রুকলিন কলেজ এবং বোরো অফ ম্যানহাটন কমিউনিটি কলেজে সহকারী প্রভাষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং কর্মজীবনে ঔষধ শিল্পে রসায়নবিদ হিসেবে কাজ করেন। ২০১৮ সালে তিনি মালয়েশিয়ার আন্তর্জাতিক ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। তার গবেষণাপত্রের মূল বিষয় ছিল বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের ভূমিকা।
ববি হাজ্জাজ; প্রতিমন্ত্রী -শিক্ষামন্ত্রণালয় এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় :
বিএনপি নেতৃত্বাধীন নতুন সরকারের মন্ত্রিসভায় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন ঢাকা-১৩ আসন থেকে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য ববি হাজ্জাজ। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) সকালে জাতীয় সংসদ ভবনে এমপিদের শপথ অনুষ্ঠান শেষে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে শপথ গ্রহণ করেন। ববি হাজ্জাজ একজন উদ্যোক্তা, শিক্ষাবিদ ও সমাজসেবক হিসেবে পরিচিত। শিক্ষা ও যুব উন্নয়নমূলক নানা উদ্যোগে দীর্ঘদিন কাজ করেছেন তিনি। শিক্ষা খাতে তাঁর অভিজ্ঞতা, ব্যবস্থাপনাগত দক্ষতা এবং তরুণ প্রজন্মের সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতার কারণেই তাঁকে শিক্ষা প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব দিয়েছেন তারেক রহমানের নেতৃত্বের সরকার।
ববি হাজ্জাজ অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উচ্চশিক্ষা লাভ করেন। বিদেশে দীর্ঘ সময় কাটালেও দেশের প্রতি তার টান ছিল প্রবল। সেই টান থেকেই তিনি দেশে ফিরে আসেন। তখন তার সামনে কর্পোরেট জগতে বা বাবার ব্যবসায় যোগ দেয়ার বিশাল সুযোগ ছিল। কিন্তু তিনি বেছে নিলেন শিক্ষকতা এবং রাজনীতির পিচ্ছিল পথ। নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক হিসেবে কাজ করার সময় তিনি তরুণ প্রজন্মের কাছে বেশ জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন।
শিক্ষা সচিব আবু তাহের মো: মাসুদ রানা, সচিব- প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় :
মাঠ পর্যায়ে দায়িত্ব পালন করেছেন সুনামের সাথে। তিনি দিনাজপুরের বিরামপুর উপজেলারি ইউএনও’র দায়িত্ব পালনকাল সুনামের অতিবাহিত করেছেন। শিক্ষার মান উন্নয়নে তিনি সব সময় সাহসী ভূমিকা রাখেন। সেই সময় শিক্ষার মান উন্নয়ন ব্যাহত করায় দূগাপুর উচ্চবিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষককে সামায়িক বরখাস্ত করায়, অন্যান্য প্রতিষ্ঠান প্রধানগন শিক্ষার মানউন্নয়নে নিজেদের সর্বাত্নকভাবে নিয়োজিত করেন। তিনি সব সময় যেখানে যে পদেই দায়িত্ব পালন করেছেন , সবখানেই সুনাম রয়েছে আজও।
আবু তাহের মোঃ মাসুদ রানা (Abu Taher Md. Masud Rana) ৮ জানুয়ারি, ২০২৫ তারিখে সচিব, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বভার গ্রহণ করেন। তিনি বিসিএস প্রশাসন ক্যাডারের ১৫তম ব্যাচ এর একজন সদস্য। তিনি ১৯৯৫ সালে বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসে যোগদান করেন। তিনি সহকারী কমিশনার ও ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়, বাগেরহাটে তাঁর কর্মজীবন শুরু করেন। এরপর পাবনা জেলার ফরিদপুর উপজেলায় এবং সহকারী কমিশনার (ভূমি) হিসেবে নওগাঁ জেলার আত্রাই ও দিনাজপুর জেলার চিরিরবন্দর উপজেলায় কর্মরত ছিলেন।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার হিসেবে তিনি দিনাজপুর জেলার বিরামপুর উপজেলা, চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার শিবগঞ্জ উপজেলা ও পাবনা জেলার ফরিদপুর উপজেলায় কর্মরত ছিলেন।
সিভিল সার্ভিসে তিনি ২৯ বছরেরও বেশি সময় গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের সচিবালয় এবং মাঠ প্রশাসনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে অতিরিক্ত সচিব, মহাপরিচালক, অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার, যুগ্মসচিব, প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, ডিডিএলজি, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসকের দায়িত্ব পালন করেছেন সুনামের সাথে।
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ে যোগদানের পূর্বে তিনি অতিরিক্ত সচিব হিসেবে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়াও জাতীয় যুব উন্নয়ন ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তৎপূর্বে তিনি অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার হিসেবে বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়, রংপুর ও রাজশাহী বিভাগে কর্মরত ছিলেন। এর পূর্বে তিনি প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে ঠাকুরগাঁও ও দিনাজপুর জেলা পরিষদে, ডিডিএলজি ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক হিসেবে লালমনিরহাট জেলায় কর্মরত ছিলেন।