প্রিন্ট এর তারিখঃ সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬, ৫:২৪ পি.এম || প্রকাশের তারিখঃ সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৬, ৯:৫০ এ.এম
ভুট্টা বিক্রির টাকা না পেয়ে সংবাদ সম্মেলনে কৃষকরা প্রায় ৪০ কৃষকের পাওনা ৩৫ লাখ টাকা, ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে টাকা পরিশোধ না করার অভিযোগ

গোলাম মোস্তাফিজার রহমান মিলন, বিশেষ প্রতিনিধিঃ ভুট্টা বিক্রি করে দীর্ঘদিনেও পাওনা টাকা না পাওয়ার অভিযোগে দিনাজপুরের ঘোড়াঘাটে সংবাদ সম্মেলন করেছেন একদল কৃষক। তাদের দাবি, স্থানীয় ভুট্টা ব্যবসায়ী মো. সামছুজ্জামান মানিকের কাছে ভুট্টা বিক্রি করে প্রায় চার মাস ধরে পাওনা টাকা না পাওয়ায় তারা চরম আর্থিক সংকটে পড়েছেন।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টার দিকে ঘোড়াঘাট উপজেলা চত্বরে ভুক্তভোগী কৃষকদের উদ্যোগে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে কৃষকরা অভিযোগ করেন, এলাকার ভুট্টা ব্যবসায়ী মো. সামছুজ্জামান মানিকের কাছে তারা ভুট্টা বিক্রি করেন। চুক্তি অনুযায়ী ভুট্টা নেওয়ার সাত দিনের মধ্যে মূল্য পরিশোধ করার কথা থাকলেও দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলেও তাদের পাওনা টাকা পরিশোধ করা হয়নি।
কৃষকদের ভাষ্য, ব্যবসায়ী মানিক তাদের কাছ থেকে বাকিতে ভুট্টা সংগ্রহ করে প্রায় সাড়ে চার মাস তার গোডাউনে রাখেন। এ সময় পাওনা টাকা পরিশোধের জন্য বিভিন্ন সময়ে আশ্বাস দেওয়া হলেও বাস্তবে টাকা দেওয়া হয়নি। একপর্যায়ে কৃষকদের অভিযোগ, তাদের অজান্তে গোডাউনে থাকা ভুট্টা একসঙ্গে আটটি ট্রাকে করে বিক্রি করে দেওয়া হয়।
বিষয়টি জানতে পেরে কৃষকরা ব্যবসায়ী মানিকের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি পাওনা টাকা পরিশোধের জন্য প্রথমে আরও এক মাস সময় চান। ওই সময়সীমা শেষ হওয়ার পর পুনরায় ১৫ দিনের সময় নেন। কিন্তু সেই সময়ও পার হয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত পাওনা টাকা পরিশোধ করা হয়নি বলে অভিযোগ কৃষকদের।
সংবাদ সম্মেলনে কৃষকরা জানান, প্রায় ৪০ জন কৃষকের কাছে ব্যবসায়ী মানিকের আনুমানিক ৩৫ লাখ টাকা পাওনা রয়েছে। কৃষকদের জন্য ফসল বিক্রির অর্থ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই টাকা দিয়েই তাদের সংসারের খরচ মেটানোর পাশাপাশি পরবর্তী মৌসুমে জমি চাষ, বীজ, সার ও অন্যান্য কৃষি উপকরণ কেনার ব্যয় বহন করতে হয়। দীর্ঘদিন ধরে পাওনা টাকা আটকে থাকায় অনেক কৃষক পরিবার আর্থিক সংকটে পড়েছেন।
ভুক্তভোগী কৃষকরা বলেন, বারবার সময় দেওয়ার পরও পাওনা টাকা না পাওয়ায় তারা বাধ্য হয়ে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে বিষয়টি প্রশাসন ও সংশ্লিষ্টদের নজরে আনছেন। দ্রুত পাওনা টাকা আদায়ে উপজেলা প্রশাসন, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এবং রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন তারা।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত ভুট্টা ব্যবসায়ী মো. সামছুজ্জামান মানিকের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ফলে কৃষকদের অভিযোগের বিষয়ে তার বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।
Copyright © 2026 Positivebdnews24. All rights reserved.