প্রিন্ট এর তারিখঃ মার্চ ১০, ২০২৬, ৩:৩৮ এ.এম || প্রকাশের তারিখঃ মার্চ ৯, ২০২৬, ৬:১৭ পি.এম
মধ্যপাড়া পাথর খনিতে উত্তোলন বন্ধের শঙ্কা; ইয়ার্ডে জমে আছে ৪২০ কোটি টাকার পাথর, ক্রয় না করায় সংকটে খনি

মোঃ রুকুনুজ্জামান বাবুল, পার্বতীপুর (দিনাজপুর) প্রতিনিধি:
দিনাজপুরের পার্বতীপুরে অবস্থিত দেশের একমাত্র পাথরখনি মধ্যপাড়া গ্রানাইট মাইনিং কোম্পানি লিমিটেড (এমজিএমসিএল) বিক্রি সংকটে পড়েছে। বিপুল পরিমাণ পাথর মজুদ থাকলেও চাহিদা না থাকায় খনিটিতে পাথর উত্তোলন বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
খনি সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে খনির ২৫টি ইয়ার্ডে প্রায় ১৪ লাখ ৪৬ হাজার টন পাথর মজুদ রয়েছে। যার বাজারমূল্য প্রায় ৪২০ কোটি টাকা। উৎপাদন অব্যাহত থাকলেও বিক্রি কমে যাওয়ায় প্রতিনিয়ত মজুদের পরিমাণ বাড়ছে। ফলে আর্থিক চাপের মুখে পড়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
দেশে বছরে প্রায় ২ কোটি ১৬ লাখ টন পাথরের চাহিদা রয়েছে। এর মধ্যে শুধু বাংলাদেশ রেলওয়ের পূর্বাঞ্চলের প্রায় ২ হাজার ৯৫৫ কিলোমিটার রেলপথে প্রতি বছর বিপুল পরিমাণ পাথর প্রয়োজন হয়। এছাড়া নদীশাসনসহ বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পেও পাথরের ব্যাপক ব্যবহার রয়েছে। তবে এসব চাহিদার বড় অংশ পূরণ হচ্ছে ভারত, ভুটান, ভিয়েতনাম ও ইন্দোনেশিয়া থেকে আমদানি করা পাথর দিয়ে।
খনি সংশ্লিষ্টদের দাবি, চুক্তিবদ্ধ ৮০/১২০ বোল্ডার ও ৪০/৬০ সাইজের পাথর বাংলাদেশ রেলওয়ে ও পানি উন্নয়ন বোর্ড না নেওয়ায় আগামী ২৫ মার্চের মধ্যে খনিতে উত্তোলন বন্ধ হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। খনি বন্ধ হলে প্রতিদিন বড় অঙ্কের আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি সরকারের রাজস্ব আয়ও কমে যাবে।
স্থানীয়দের আশঙ্কা, খনিতে উৎপাদন বন্ধ হলে সেখানে কর্মরত শ্রমিক-কর্মচারীদের আয়-রোজগার বন্ধ হয়ে যাবে। এতে পুরো এলাকার অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
মধ্যপাড়া গ্রানাইট মাইনিং কোম্পানির মহাব্যবস্থাপক (প্রশাসন ও সেবা) সৈয়দ রফিজুল ইসলাম বলেন, বর্তমানে ইয়ার্ডে মজুদ পাথরের মধ্যে ৪০ থেকে ৬০ মিলিমিটার ব্লাস্ট পাথর প্রায় ৯ লাখ টন এবং ৮০/১২০ বোল্ডার প্রায় ৩ লাখ ৬৭ হাজার টন রয়েছে। বর্তমানে খনি থেকে ছয় ধরনের পাথর উৎপাদন করা হচ্ছে।
এমজিএমসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী ডিএম জোবায়েদ হোসেন বলেন, বাংলাদেশ রেলওয়ে ও পানি উন্নয়ন বোর্ড নদীশাসন কাজে পাথর ক্রয় না করায় খনির ইয়ার্ড পূর্ণ হয়ে গেছে। এছাড়া বিদেশ থেকে আমদানিকৃত ডেটোনেটরের (বিস্ফোরক) ওপর রয়্যালটি না কমানোয় খনির উৎপাদন অব্যাহত রাখা কঠিন হয়ে পড়ছে।
তিনি আরও বলেন, সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পে মধ্যপাড়া খনির পাথর ব্যবহার নিশ্চিত করা গেলে দেশের একমাত্র পাথরখনিটি আবারও সচল হয়ে উঠবে এবং সরকারের রাজস্ব আয়ও বাড়বে।
Copyright © 2026 Positivebdnews24. All rights reserved.