👁 296 Views

দিনাজপুরের নবাবগঞ্জে ভুয়া শিক্ষক নিবন্ধন সনদে ২০ বছর চাকরি ! খতিয়ে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা

মোরশেদ মানিক :

দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ উপজেলার দাউদপুর বালিকা বিদ্যালয়ের রেবেকা সুলতানা নামে এক শিক্ষিকা এনটিআরসির ভুয়া নিবন্ধন সনদ ব্যবহার করে দীর্ঘ  ২০ বছর ধরে চাকরি করে আসছেন। বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০০৬ সালে সমাজবিজ্ঞান বিষয়ে তিনি এই প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ পান।

২০১৯ সালে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তরের এক পরিদর্শনে তার সনদ জাল বলে ধরা পড়ে। পরিদর্শক টুটুল কুমার নাগের প্রতিবেদনে উক্ত শিক্ষিকার নিবন্ধন সনদটি ভুয়া বলে উল্লেখ করা হয়। তবে রহস্যজনক কারণে ওই প্রতিবেদনের পরও তার বিরুদ্ধে দৃশ্যমান কোনো প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।

সহকারী শিক্ষক মোসা. রেবেকা সুলতানার শিক্ষক নিবন্ধন সনদ যাচাইয়ের জন্য ২১/০৯/২০২২ তারিখে স্মারক নং-৩৭.১৯.০০০০.০৩৬.১৬.০৫৪.২২.৫৬ মোতাবেক এনটিআরসিএ বরাবর পত্র প্রেরণ করা হয়। এর প্রেক্ষিতে ২৬/০৯/২০২২ তারিখে স্মারক নং-৩৭.০৫.০০০০.০১০.০৫.০০১.২০/৯২৪ অনুযায়ী এনটিআরসিএ কর্তৃপক্ষ জানায়, তার সনদটি সঠিক নয়। ফলে তার নিয়োগ বিধি সম্মত হয়নি এবং তিনি সরকারি বেতন-ভাতার জন্য

প্রাপ্য নন। এছাড়া ২৩/০৯/২০০৬ থেকে ৩০/১১/২০১৯ পর্যন্ত সময়ে তার গ্রহণ করা মোট ১৪,৪০,৯০০ টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরতযোগ্য বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযুক্ত শিক্ষিকা রেবেকা সুলতানা বলেন, তিনি নিবন্ধন পরীক্ষা দিয়েছেন এবং সনদও পেয়েছেন। অডিট প্রতিবেদনে কেন তার সনদকে জাল বলা হয়েছে তা তিনি বুঝতে পারছেন না। তবে বিষয়টি পরিষ্কার করতে তিনি পুনরায় সংশ্লিষ্ট দপ্তরে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিয়েছেন।

বিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ ফজলুল হক বলেন, তাদের প্রতিষ্ঠানে কর্মরত সামাজিক বিজ্ঞানের শিক্ষিকার নিবন্ধন সনদটি জাল বা ভুয়া বলে প্রাথমিকভাবে প্রতীয়মান হয়েছে। বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং প্রযোজ্য বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জিল্লুর রহমান বলেন, বিষয়টি অবগত হয়েছি। সংশ্লিষ্ট দপ্তরের মাধ্যমে সঠিকভাবে তদন্ত করে আইন ও বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

নবাবগঞ্জ উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা দীপক কুমার বনিক বলেন, জাল সনদের বিষয়টি সম্পর্কে তিনি অবগত হয়েছেন, তবে তার দপ্তরে এ সংক্রান্ত কোনো আনুষ্ঠানিক কপি এখনো পৌঁছায়নি। সাধারণত এসব কপি জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসে আসে এবং প্রতিষ্ঠান প্রধানকে অনুলিপি দেওয়া হয়। তিনি বিস্তারিত জেনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন বলে জানান।

জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা খন্দকার মোঃ আলাউদ্দীন আল আজাদ বলেন, অভিযুক্ত শিক্ষিকার নিবন্ধন সনদ জাল বা ভুয়া হওয়ার অভিযোগটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় প্রমাণাদি যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে বিধি মোতাবেক প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *