👁 87 Views

চিরিরবন্দরে নিজস্ব উদ্যোগে নতুন রাস্তা নির্মাণ, ঘুচছে হাজারো মানুষের দুর্ভোগ

মোরশেদ উল আলম, চিরিরবন্দর (দিনাজপুর) প্রতিনিধিঃ চিরিরবন্দরে পাশাপাশি দুটি গ্রামের জনগণের চলাচলের সুবিধার্থে নতুন একটি সরু রাস্তা নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছে। ফলে আউলিয়াপুকুর ইউনিয়নের পুর্ব বড়গ্রাম বোর্ডপাড়া ও পশ্চিম বড় গ্রামের মধ্যবর্তী এই রাস্তাটির নির্মাণ কাজ শুরু হওয়ায় দুই গ্রামের হাজারো মানুষের দীর্ঘদিনের লালিত স্বপ্ন পূরণ হতে চলেছে।
সরজমিনে গিয়ে জানা ও দেখা গেছে, পুর্ব বড়গ্রামের বোর্ড পাড়ার বাসিন্দাদের কবরস্থানসহ ঈদগাহ মাঠ পশ্চিম বড় গ্রামের বড় পুকুর পাড়ে। কোন রাস্তা বা আইল না থাকায় তাঁরা ঈদের নামাজ আদায় করতে ও কেউ মারা গেলে মরদেহ কবরস্থানে নিয়ে যাওয়াসহ বিভিন্ন কারনে খুব কষ্টে চলাফেরা করতেন। ৫ শত মিটার রাস্তার জন্য তাদের ৪ কিলোমিটার ঘুরে চলতে হত। বিভিন্ন প্রয়োজনে নিত্যদিনের যাতায়াতের চরম ভোগান্তি দূর করতে মানবিক উদ্যোগ গ্রহণ করেন পশ্চিম বড়গ্রাম এলাকার দুই যুবক মোহাম্মদ হামিদুল ইসলাম এবং মোহাম্মদ ফারুক। এরপর পুর্ব বড়গ্রামের লোকজনসহ এলাকাবাসীর আন্তরিক সহযোগিতায় সম্পূর্ণ নিজস্ব উদ্যোগে ও অর্থায়নে বোরো ধান উঠানোর পরপরই এ সরু রাস্তা নির্মান শুরু করেন।
স্থানীয় ভুক্তভোগী বাসিন্দা মাহবুবুর রহমান, সাগর ইসলাম, শাহিদ ইসলাম, মনসুর আলী জানান, পুর্ব গ্রামের বোর্ডপাড়া ও পশ্চিম বড় গ্রাম দুটি অত্যন্ত জনবহুল গ্রাম পাশাপাশি অবস্থিত হলেও মাঝখানে কোনো সংযোগ সড়ক ছিল না। দুই গ্রামের মধ্যে সরাসরি মাত্র আধা কিলোমিটারের একটি রাস্তা না থাকায় দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে দুই তীরের বাসিন্দাদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছিল। ঈদের নামাজ আদায় করতে ও কেউ মারা গেলে মরদেহ কবরস্থানে নিয়ে যাওয়াসহ দৈনন্দিন জরুরি প্রয়োজনে এক গ্রাম থেকে অন্য গ্রামে যাতায়াতের জন্য এলাকার মানুষদের দীর্ঘ ৪ কিলোমিটার রাস্তা ঘুরে বিকল্প পথে যাতায়াত করতে হতো। সরাসরি যোগাযোগের অভাবের কারণে বর্ষাকালে এই সমস্যা আরও কয়েক গুণ প্রকট আকার ধারণ করত। মরদেহ নিয়ে ধান ক্ষেতের মাঝখান দিয়ে কবরস্থানে যেতে হত।
দীর্ঘদিনের এই পুঞ্জীভূত জনদুর্ভোগ ঘোচাতে স্থানীয় যুবক মোহাম্মদ হামিদুল ইসলাম ও মোহাম্মদ ফারুকের উদ্যোগে জমি সংগ্রহ থেকে শুরু করে শারীরিক ও মানসিক শ্রম দিয়ে এগিয়ে আসেন পুর্ব বড়গ্রামের বোর্ডপাড়া ও পশ্চিম বড় গ্রামের আপামর জনসাধারণ। সকলের সম্মিলিত সহযোগিতায় এবং এই দুই তরুণের সম্পূর্ণ নিজস্ব অর্থায়নে এক্সকাভেটর (ভেকু) গাড়ি এবং শ্রমিক লাগিয়ে মাটি কেটে মোটামুটি একটি সরু রাস্তা নির্মাণ করা হয়।
এই মহতী উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে পুর্ব বড় গ্রামের বোর্ড পাড়া ও পশ্চিম বড় গ্রামের নাসির উদ্দিন, আজাদ রহমান, আজগার আলীসহ একাধিক বাসিন্দা বলেন, আমরা বাপদাদার আমল থেকে দেখে আসছি এই দুটি গ্রামের মানুষকে সামান্য কাজের জন্য ৪ কিলোমিটার রাস্তা ঘুরে চলাচল করতে। এ রাস্তাটি চালু হলে খুব উপকার হবে দুই গ্রামের মানুষের। রাস্তার পাশের জমি থেকে উত্তোলিত ধান সহজে পরিবহন করা যাবে। বর্তমানে কাঁচা রাস্তা হিসেবে এটি নির্মাণ করা হলেও, ভবিষ্যতে যেন দ্রুত সময়ের মধ্যে এটিকে প্রশাসনের মাধ্যমে পাঁকা বা হেরিংবোন বন্ড করণের মাধ্যমে একটি স্থায়ী টেকসই সড়কে রূপান্তর করা হয়।
ফারুক ও নয়ন নামে ভূমি মালিকরা বলেন, নবনির্মিত রাস্তার জমিগুলো আমাদের বংশের। আমাদের কোন আপত্তি নাই। তবে নাসির উদ্দিন নামে এক ভুমি মালিক বলেন, তিনি চলাচলের জন্য ৩ ফুট পর্যন্ত জমি ছাড়বেন। অপর পাশের জমির মালিক ৩ ফুট ছাড়বে। ৩ ফুটের বেশি হওয়ায় তিনি অতিরিক্তটি কেটে দিয়েছেন।
স্থানীয় আউলিয়াপুকুর ইউনিয়নের ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ আব্দুর রহিম বলেন, এই রাস্তাটি পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হলে দুই গ্রামের যোগাযোগ ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তনের পাশাপাশি এলাকার সার্বিক আর্থ-সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *