নবাবগঞ্জে আঙুর চাষে সফল তৌহিদুল, কৃষিতে নতুন দ্বার উন্মোচন
18 Oct 2026
02:49 PM
মেহেদী হাসান, নবাবগঞ্জ (দিনাজপুর) প্রতিনিধি: মাদকের ভয়াল থাবায় ও মোবাইলে অনলাইন জুয়া খেলে অনেকেই নিঃস্ব হচ্ছেন, আবার কেউ কেউ ফেসবুক ও ইউটিউব দেখে হয়েছেন স্বাবলম্বী। প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহারে বদলে যাচ্ছে জীবনের গল্প। ঠিক তেমনি ইউটিউব দেখে অনুপ্রাণিত হয়ে সফল আঙুর চাষের দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ উপজেলার মাহমুদপুর ইউনিয়নের নলেয়া গ্রামের বাসিন্দা কলেজ পড়ুয়া তরুণ যুবক মো. তৌহিদুল ইসলাম তৌহিদ।
শখের বসে মাত্র পাঁচটি আংগুর চারা রোপণের মাধ্যমে তার প্রথম আঙুর চাষে পথচলা। প্রথমবার সফলতার মুখ না দেখলেও পরবর্তীতে ইউটিউব ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে
আঙুর চাষ সম্পর্কে নানাবিধ জ্ঞান অর্জন করেন। ২০২৬ সালে তৌহিদুল মাত্র ১০ শতাংশ জমিতে ১৫ জাতের প্রায় ৮৫টি চারা রোপণ করেন করে গড়ে তোলেন
আঙুরের বাগান।
শুরুতে স্থানীয়রা তার উদ্যোগকে ভালোভাবে নেয়নি। তবে ধীরে ধীরে বাগান দৃশ্যমান হলে অনেকেই অবাক হন। এখন থোকায় থোকায় ঝুলে থাকা আঙুর দেখে উৎসাহিত হচ্ছেন আশপাশের মানুষ। অনেকেই আগ্রহ দেখাচ্ছেন নতুন করে আঙুর চাষে নামার।
মো.তৌহিদুল ইসলাম তৌহিদ বলেন, ‘প্রথমে কারও সহযোগিতা পাইনি। ফেসবুক ও ইউটিউব দেখে নিজের মতো করে শুরু করি। অনেকে কটাক্ষ করলেও থেমে যাইনি। বরং চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছিলাম আঙুর চাষকে। এখন বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ আমার বাগান দেখতে আসছেন। ফল দেখে মুগ্ধ হয়ে হচ্ছে। তিনি জানান আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবং ভালো দাম পেলে ভবিষ্যতে ৪ বিঘা জমিতে আঙুর চাষ করবেন।তৌহিদুলের বাবা মোহাম্মদ আলী বলেন, আমার ছেলে কলেজে পড়াশোনার পাশাপাশি মোবাইলে ইউটিউব দেখে আঙুর চাষ শুরু করে। আমি যতটা পারি তাকে সহযোগিতা করছি। শুরুতে গ্রামের লোকজন এটাকে গুরুত্ব না দিলেও এখন সবাই গর্ব করছে।” উপজেলা উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. আমিনুল ইসলাম জানান, তৌহিদুলের বাগান পরিদর্শন করে নিয়মিত পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। তার সফলতা অন্যদেরও অনুপ্রাণিত করবে বলে আশা করছেন তিনি।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. জাহিদুল ইসলাম ইলিয়াস বলেন, “ উপজেলা কৃষি অফিস থেকে তৌহিদুলকে সব ধরনের সহায়তা দেওয়া হবে। অনুকূল আবহাওয়া ও বাজারমূল্য ঠিক থাকলে সে ভালো লাভবান হবেন এবং কৃষিতে সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন হবে বলে আশা করেন।