👁 405 Views

দিনাজপুরে স্কুল ফিডিংয়ের আওতায় ৬৫ হাজার শিশু শিক্ষার্থী

মোঃ বায়েজিদ বোস্তামী, বিশেষ প্রতিনিধি: দিনাজপুর জেলার ৫টি উপজেলায় প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর পরিচালিত স্কুল ফিডিংয়ের সুফল পাচ্ছে প্রায় ৬৫ হাজার শিশু শিক্ষার্থী। পুষ্টিকর টিফিন পেয়ে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি ও পড়াশুনায় মনোযোগ বেড়েছে। গত বছরের ২৮ ডিসেম্বর থেকে শুরু করা সাফল্য জনক এ কর্মসূচি শিশুদের মেধা বিকাশে নতুন দিগন্তের উন্মোচন করেছে।
বিভিন্ন স্কুল ঘুরে দেখা গেছে, স্কুল ফিডিং কর্মসূচির পুষ্টিকর টিফিনের সুবাসে প্রতিটি স্কুলে বেড়েছে শিশু শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি। টিফিন বিতরণের সময় শিশুদের মাঝে উৎসব মূখর পরিবেশ বিরাজ করে। শিক্ষকরা জানান, আগে বাড়ি থেকে না খেয়ে আসা এবং ছোট শিশুরা বেলা বাড়ার সাথে ক্ষুধার কারণে লেখাপড়ায় মনোযোগ হারিয়ে ফেলতো। ক্ষুধার্ত শিশুরা খাওয়ার জন্য বাড়ি চলে গেলেও অনেকে আর ফিরে আসতোনা। স্কুল ফিডিং চালুর পর শিক্ষার্থীরা প্রতিদিন স্কুলেই পুষ্টিকর টিফিন পাচ্ছে। এতে শিশুদের আর ক্ষুধার তাড়নায় উদ্বিগ্ন হতে হয়না। ফলে লেখাপড়ায় তাদের মনোযোগ এবং স্কুলে উপস্থিতি বেড়েছে।
জানা গেছে, দিনাজপুর জেলার ৫টি উপজেলায় সরকারের প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর স্কুল ফিডিংয়ের কর্মসূচি হাতে নেয়। এ কর্মসূচি বাস্তবায়নের দায়িত্ব পেয়েছে ইকো-সোশাল ডেভলপমেন্ট অর্গানাইজেশন (ইএসডিও)। জেলার বিরামপুর, ঘোড়াঘাট, কাহারোল, বিরল ও বোচাগঞ্জ উপজেলার ৬০২টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৭২ হাজার ৪৭৫ জন শিশু শিক্ষার্থীর মধ্যে ৯০ ভাগ উপস্থিতির সংখ্যা হিসেবে ৬৪ হাজার ৯৯৮ জন এ কর্মসূচির খাদ্য সহায়তা পাচ্ছে। সপ্তাহের ৫দিন দু’টি করে বনরুটি ও ১টি করে সিদ্ধ ডিম এবং ১দিন কলা বনরুটি খাওয়ানো হয়।
বেসরকারী উন্নয়ন সংস্থা ইএসডিও দিনাজপুর জেলার স্কুল ফিডিং প্রোগ্রাম ম্যানেজার শাহ্ মোঃ আমিনুল হক জানান, এই কর্মসূচির খাদ্য সরবরাহকারী ১৯২ জন নারী উদ্যোক্তা সপ্তাহে ৪/৫ হাজার টাকা মুনাফা অর্জনের মাধ্যমে অর্থনৈতিক ভাবে সাবলম্বী হচ্ছে। সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিশুপুষ্টি ও শিক্ষার মানোন্নয়নে বর্তমান সরকারের চালু করা ‘স্কুল ফিডিং’ কর্মসূচি যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে এ কার্যক্রম নতুন আশার সঞ্চার করেছে। নিয়মিত সুষম খাবার গ্রহণের ফলে শিশুদের বুদ্ধিভিত্তিক ও মানসিক বিকাশে দীর্ঘমেয়াদী ভূমিকা রাখছে। সামাজিক ও শিক্ষাগত বৈষম্য দূরীকরণে ধনী-দরিদ্র নির্বিশেষে সকল শিক্ষার্থী একই মানের পুষ্টিকর খাবার গ্রহণের ফলে তাদের মাঝে একটি দৃঢ় সামাজিক বন্ধন তৈরি হয়। এতে শ্রেণিকক্ষ কেন্দ্রীক শিক্ষার বৈষম্য কমে আসছে। এছাড়া স্কুল ফিডিংয়ের সুবিধার ফলে কিণ্ডারগার্টেন স্কুলের শিশুরাও এখন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রতি আগ্রহী হয়ে উঠছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *