👁 79 Views

অবসরের পরও অধ্যক্ষের চেয়ারে বসে হাজিরা, মোরেলগঞ্জের গুলিশাখালী ফাজিল মাদরাসায় উত্তেজনা

এস. এম. সাইফুল ইসলাম কবির,বাগেরহাট জেলা প্রতিনিধি:

বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ উপজেলার গুলিশাখালী ফাজিল (স্নাতক) মাদরাসার অধ্যক্ষের চাকরির বয়স শেষ হওয়ার পরও অধ্যক্ষের দায়িত্ব পালন এবং হাজিরা খাতায় স্বাক্ষরকে কেন্দ্র করে প্রতিষ্ঠানটিতে প্রশাসনিক জটিলতা ও উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় শিক্ষক-কর্মচারীদের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

জানা গেছে, মাদরাসার অধ্যক্ষ মাওলানা আব্দুল বারী হাওলাদারের চাকরির বয়স গত ২৯ জুন শেষ হয়। এরপরও বুধবার (১ জুলাই) তিনি অধ্যক্ষ হিসেবে হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করলে শিক্ষক-কর্মচারীদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষের সৃষ্টি হয়।

এ ঘটনায় মাদরাসার উপাধ্যক্ষসহ কয়েকজন শিক্ষক অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে স্বেচ্ছাচারিতা, অনিয়ম, দুর্নীতি এবং পেশিশক্তি প্রয়োগের অভিযোগ এনে তার অবস্থানের বিরোধিতা করেন। একই সঙ্গে প্রাণনাশের আশঙ্কা প্রকাশ করে উপাধ্যক্ষ গাজী মো. শহিদুল ইসলাম বুধবার মোরেলগঞ্জ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। প্রতিষ্ঠানটিতে বর্তমানে প্রায় ৮০০ শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছে।

উপাধ্যক্ষ গাজী মো. শহিদুল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, চাকরির মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও অধ্যক্ষ আব্দুল বারী বহিরাগতদের নিয়ে এসে জোরপূর্বক হাজিরা খাতা নিজের নিয়ন্ত্রণে নেন এবং তাতে স্বাক্ষর করেন। পরে হাজিরা খাতাও আটকে রাখেন। তিনি আরও বলেন, বহিরাগতদের সহযোগিতায় অধ্যক্ষের চেয়ার দখল করে রাখা হয়েছে এবং শিক্ষক-কর্মচারীরা এ ধরনের অনৈতিক ও স্বেচ্ছাচারী কর্মকাণ্ড কোনোভাবেই মেনে নেবেন না।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে অধ্যক্ষ মাওলানা আব্দুল বারী হাওলাদার বলেন, তার চাকরির বয়স শেষ হয়েছে—এটি সত্য। কিন্তু প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নে তার দীর্ঘদিনের শ্রম ও অবদানের কথা বিবেচনা করে পরিচালনা কমিটি তাকে দুই বছরের জন্য চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দিয়েছে। তিনি দাবি করেন, এ সময়ে তিনি বিনা বেতনে দায়িত্ব পালন করবেন। তিনি আরও বলেন, কোনো ধরনের অনৈতিক কর্মকাণ্ড বা পেশিশক্তি প্রয়োগের অভিযোগ সঠিক নয়।

এ বিষয়ে মাদরাসা পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও বাগেরহাটের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক অনুপ দাস বলেন, চাকরির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর অধ্যক্ষ আব্দুল বারী বর্তমানে প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বে নেই। ফলে হাজিরা খাতায় তার স্বাক্ষরের কোনো আইনগত বৈধতা নেই। তিনি বলেন, তাকে এখনো চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া হয়নি। পরিচালনা কমিটি যদি চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের সিদ্ধান্ত নেয়, তবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন পাওয়ার পরই তিনি অবৈতনিক অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে পারবেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *